Friday, August 23, 2013

তন্ময়ের আঁকা আমার ছবি

সময়টা ফেব্রুয়ারির ৭ কিংবা ৮ তারিখ , ২০১৩
উত্তাল শাহবাগ, অসংখ্য মানুষের ভিড়
সদ্যই সম্পর্কে জড়ানো কারো জন্য মন পরে আছে সিলেটে। আমি একা একা ঘুরাঘুরি করি শাহবাগে , মানুষ দেখি হেঁটে হেঁটে; হঠাৎ দুইজন আমার পথ আটকে দাড়ায়,
- আপনি সাস্টে পড়েন না ?
সাস্টেও মানুষজন আমাকে চেনে ভেবে অবাক হই, অবাক-ভাব লুকিয়ে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে (যেহেতু আপনি করে বলছে) জবাব দেই,
- হ্যাঁ, আমি সাস্টে অনেক পড়াশোনা করবো ভেবে ভর্তি হইছিলাম !
এইভাবেই পরিচয় জুনিয়র এই দুই ছেলের সাথে, একজন কল্লোল আরেকজন তন্ময়। ভোরবেলা সিলেটের ট্রেন থেকে নেমেই শাহবাগে চলে এসেছে, সেই লেভেল এর সিরিয়াস পাবলিক। এরপর এই দুইজনের সাথে ঢাকায় - সিলেটে আন্দোলন , রোড পেইন্টিং করেছি, একবার তো ধরে-বেঁধে আমরণ অনশন করতে বসায় দিতে নিয়েছিল, সময়মত বৃষ্টি নেমেছিল বলে বেঁচে গিয়েছি।
এই দুই ছেলে ক্যাম্পাসে সাইকেল জনপ্রিয় হওয়ার আগে থেকেই ভাঙাচুরা সাইকেল নিয়ে বিশাল বিশাল রাইড দেয়।
দুইজনের মধ্যে তন্ময় পড়ে ম্যাথম্যাটিকসে, সার্কিটের কাজকর্মে তার বিশাল দক্ষতা, কিছুদিন আগে DSLR কিনে তার সে কি ভাব! খুব কম সময় তন্ময়কে আশেপাশে ৩/৪ জন মেয়ে নাই এমন অবস্থায় পাওয়া যায়। এর মধ্যে দেখি একদিন পেন্সিল দিয়ে এক সুন্দ্রি আপুর ছবি একে বসে আছে। ধরে ধ্যাতানি দেয়ার পর , DSLR দিয়ে নিয়মিত ছেলেদের ছবি তুলবে আর আমার একটা ছবি একে দিবে প্রতিজ্ঞা করে ২/৩ মাসের জন্য সব ভুলে বসে ছিল।
শেষ পর্যন্ত ঈদের ছুটির পর গতকাল, প্রতিজ্ঞাস্বরূপ নাকি প্রতিশোধস্বরূপ তন্ময়ই জানে, আমার একটা ছবি একে নিয়ে আসছে
ছবিতে আমাকে মোটাসোটা বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিন্তুই কোন এক অদ্ভুত কারণে আমার কমলার কোয়ার মতো মোটা নিচের ঠোঁটটাকে মডেল কন্যাদের কোমরের মতো চিকন বানায় ফেলছে, খুশী হব কিনা বুঝতে পারছি না :P 

No comments :

Post a Comment