Sunday, December 18, 2016

জাতীয় কবিতা উৎসবের ইতিহাস

১৯৮৭ সালের কথা, স্বৈরাচার এরশাদ তখন ক্ষমতায়। রাষ্ট্রীয় ভাবে কবি এরশাদের প্রচার প্রচারনার চলে। ভন্ড কবি এরশাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তখন সৈয়দ আলী আহাসান, আল মাহমুদ, ফজল শাহাবুদ্দিনের কবিরা। ফজল শাহাবুদ্দিন আবার ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক। তখন নাকি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রতি সপ্তাহে এরশাদের একটা করে কবিতা প্রকাশিত হত। তার ইচ্ছাতেই তৈরি হল "কবিতা কেন্দ্র" সেখান থেকেই এরশাদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করা হল "এশীয় কবিতা উৎসব"।
অন্যদিকে স্বৈরাচার বিরোধী কবিদের নিয়ে গঠিত হল জাতীয় কবিতা পরিষদ। সেসময় দৈনিক বাংলা থেকে পদত্যাগ করে কবি শামসুর রাহমান যোগ দেন জাতীয় কবিতা পরিষদে। সাথে থাকেন সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ, মোহাম্মদ রফিক, ড. হুমায়ুন আজাদ, বেলাল চৌধুরী, লুৎফর রহমান সরকার,নির্মলেন্দু গুণ, আসাদ চৌধুরী, মহাদেব সহা, হায়াৎ মাহমুদ, রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সহ আরও অনেকে।
১৯৮৭ এর ৩১ জানুয়ারী থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এশীয় কবিতা উৎসব। তিনদিন ব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ওসমানী স্মৃতিমিলনায়তনে। রাষ্ট্রপতি এরশাদই ছিলেন এ উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। অন্যদিকে ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপে হয় জাতীয় কবিতা উৎসব। কবি শামসুর রাহমানের সভাপতিত্বে কবি বেগম সুফিয়া কামাল উৎসবের উদ্বোধন করেন।
জাতীয় কবিতা পরিষদ আর জাতীয় কবিতা উৎসব দুইটাই টিকে আছে ৩০ বছর ধরে। রাষ্ট্রীয় ভাবে লাখ লাখ টাকা খরচ করেও এশীয় কবিতা উৎসব দুইবারের বেশি করা সম্ভব হয় নাই। কবিতা কেন্দ্র আর ফজল শাহাবুদ্দিনের কথা আমি জানলামই ইতিহাস পড়তে গিয়ে।

দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে
দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে

'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' এই স্কেচটি পটুয়া কামরুল হাসানের শেষ শিল্পকর্ম। ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় জাতীয় কবিতা উৎসবে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকাকালীন সময়ে মঞ্চে বসে এটি আঁকার কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

No comments :

Post a Comment